শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

পি কে হালদারের ২ কোম্পানির ঋণের তথ্য চায় তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বয়ে গঠিত যৌথ তদন্ত কমিটি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে এ যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কার্যক্রমের ধরাবাহিকতায় পি কে হালদারের নিয়ন্ত্রণে থাকা রহমান কেমিক্যালস ও নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে নেওয়া ঋণের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে রক্ষিত ওই দুই কোম্পানির আমানতের বিস্তারিত তথ্যও জানতে চেয়েছে যৌথ তদন্ত কমিটি।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সব তথ্যসহ স্বশারীরে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে আপনাদের কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ঋণ ও আমানতের প্রয়োজনীয় তথ্য গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

সূত্রে জানা গেছে, যেসব তথ্য যৌথ তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিতে হবে সেগুলো হলো- মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের কাছ থেকে রহমান কেমিক্যালস এবং নর্দান জুট কর্তৃক গৃহীত সব ঋণের বিস্তারিত তথ্য (কর্তৃপক্ষের প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত, অনুমোদনপত্র, ঋণ হিসাব বিবরণীর বর্তমান অবস্থা ইত্যাদি)। আর কোম্পানিগুলিতে ঋণ সংক্রান্ত অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথি। এছাড়া, দুই কোম্পানির রক্ষণাবেক্ষণ করা সব আমানতের বিস্তারিত তথ্য (এফডিআর, টিডিআর এবং যেকোনো ফরমে কোন ডিপোজিট বোর্ডের সিদ্ধান্ত, প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত, বর্তমান স্থিতির কোনো জমা বা গৃহীত আমানতের বিপরীতে বন্ধক ইত্যাদি)।

জানা গেছে, পি কে হালদারের দখল করা প্রতিষ্ঠান চারটি হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। এর মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য অবসায়ক নিয়োগ করা হয়েছে। চারটি প্রতিষ্ঠান দখলে নিলেও কোনো প্রতিষ্ঠানেই পি কে হালদারের নিজের নামে শেয়ার নেই। তবে সব শেয়ার অন্যদের নামে হলেও ঘুরে ফিরে আসল মালিক পি কে হালদারই। নিজেকে আড়ালে রাখতে এমন কৌশল নেন তিনি। নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে পি কে হালদার গড়ে তুলেছেন একাধিক প্রতিষ্ঠান, যার বেশির ভাগই কাগুজে। এর মধ্যে রয়েছে পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল, পিঅ্যান্ডএল অ্যাগ্রো, পিঅ্যান্ডএল ভেঞ্চার, পিঅ্যান্ডএল বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, হাল ইন্টারন্যাশনাল, হাল ট্রাভেল, হাল ট্রিপ, হাল ক্যাপিটাল, হাল টেকনোলজি অন্যতম। এর বাইরে আনন কেমিক্যাল, নর্দান জুট, সুখাদা লিমিটেড, রেপটাইল ফার্মসহ আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া, পি কে হালদারের নিয়ন্ত্রণে যাওয়া রহমান কেমিক্যালস ও নর্দান জুটের নামের ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ১৭০ কোটি ঋণ নেওয়া হয়। এই ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সেই চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একটি, যা পি কে হালদার দখল করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওই ১৭০ কোটি টাকা ঋণের সুবিধাভোগী পি কে হালদারই।

এদিকে অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও শেয়ার কারসাজির অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। এরই ধরাবাহিকতায় চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বিএসইসির ৭৫৮তম সভায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করার জন্য পি কে হালদারকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি। এছাড়া তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান- হাল ইন্ডাস্ট্রিজকে ৮৫ লাখ ও সন্দীপ করপোরেশনকে ৬০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তবে বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

পি কে হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিএসইসি’র একজন পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন উপ মহাব্যাবস্থাপক ও দুদকের একজন পরিচালক রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com